সুব্রত আচার্য: প্রিয়া সাহা এবং প্রিয়া সাহা হিট ! ফেসবুকের যোদ্ধারাও আবার জাগ্রত জনতা। পক্ষে বিপক্ষে সওয়াল পাল্টা জাবাব চলছেই। বর্ষাকালের বৃষ্টিপাত কিংবা বন্যার খবর এখন আপাতত বালিশের নিচে বিবাহ বিচ্ছেদর তা কোনও নারীর ভাব-আবেগের মতোই চাপা পড়ে গিয়েছে।
আমিও ফেসবুকের জাগ্রত জনতার একজন হতে চাইলাম আজ। কিন্তু কেন ?
প্রিয়া সাহার মন্তব্য নিয়ে আমার দুটো উপলব্ধি আছে।
আমি সম্প্রতি ঢাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে আমার এক সহকর্মী
আমাকে প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা দাদা ভারত তার সেকুলারিজমের ইমেজটা বোধ হয় হারিয়ে ফেলেছে।
আমার প্রশ্ন কেন ?
উত্তর : না এই যে বিজেপি এসেছে। ভারতের মুসলিম অরক্ষিত। শুনছি গরু নিয়ে মাঝে মধ্যেই খুনোখুনি হয়ে যাচ্ছে। তবে কি ভারতের সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নন ? প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন আমার কাছে
আমার উত্তর : ভারতের জনসংখ্যা ১৩০ কোটি। গরু নিয়ে যে ঘটনা গুলো ঘটছে সেটার সংখ্যা কত। গত ৫ বছরে সব মিলিয়ে সেটা ধরুন ৫০ টি হবে কিংবা ১০০ টি হতে পারে।
১৩০ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যাটি দিয়ে গোটা দেশের ভাবমূর্তি বিচার করলে বুদ্ধিভ্রষ্ট বলে মনে কবো আমি।
যদিও একটি ঘটনা হোক সেটা আমি চাই না। আমার মতো আরো ১শ ৩০ কোটির মধ্যে ১০০ জনকে বাদ দিন তারা চান না। তাই তো ১৩০ কোটি ঘটনা ঘটেনি। তবে এই সংখ্যা দিয়ে আপনি কি করে বিচার করবেন যে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমরা নিরাপদে নেই ?
আমাকে প্রশ্নকারী বন্ধুর মুখে তখন নীরবতা ছাড়া কিছু দেখলে পেলাম না।
এবার আসি প্রিয়া সাহার কথায়।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা কত ? সরকারি বেসরকারি কিংবা নানা সূত্র থেকে বলতে গেলে ২০ কোটি কিংবা তার একটু কম হবে।
গত ১০ বছরে সেখানে ১০০ টি হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ধরে নিই কিংবা তারও বেশি হতে পারে।
তার মানে কি আমি ধরে নেবো যে সে দেশে হিন্দুরা নির্যাতিত ?
সে দেশের আমার জানা মতো দেড় থেকে দুই কোটি হিন্দু আছেন। একটি দেশের নাগরিকরা যে কোনও ধর্মের হোন বর্ণের হোন তাদের প্রথম পরিচয় তারা সেই দেশের নাগরিক মানে কেউ বাংলাদেশি কিংবা ভারতীয়।
তাই নিজের দেশের সহনাগরিকের সঙ্গে ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্টীগত কোনও ঘটনা ঘটলে সেটা সে দেশের নাগরিকদের মধ্যেই এই ঘটনা বলে আমার মনে হয়।
এখানে কোনও ধর্ম কিংবা গোষ্টীর সমস্যা বলে মনে হয় না।
আর যদি কোনও ধর্মীয় কিংবা গোষ্ঠীর মধ্যেও সমস্যা হয় তবে সেটা নিজের দেশের অন্য সহনাগরিক কিংবা সহগোষ্ঠীর কিংবা সহধর্মীয় ভাবে মিটিয়ে নেওয়াটাই নাগরিক হিসাবে প্রত্যেকের কতর্ব্য বলে মন হয় আমার কাছে।
প্রিয়া সাহা কিংবা ভারতের গরু হত্যা কান্ডকে সার্বিক ভাবে কোনও দেশের চরিত্র হিসাবে উল্ল্যেখ করা তাই চরম বুদ্ধিভ্রষ্টতার সামিল বলেই আমার অভিমত
তবে প্রত্যেক মতের পাল্টা মত থাকতে পারে। আর সেই মতের সঙ্গে কেউ সহমত পোষণ নাও করতে পারেন। তার জন্য গঠনমূলক যুক্তি থাকবে। আক্রমণ নয়।
বিশেষভাবে ক্ষমা চাইছি : আমি অতিতের কোনও ধর্মীয় বিষয়ে মত প্রকাশ করেনি। এটা আমার নীতিতে যায় না। তবে এটা শুধু ধর্মীয় বিষয় বলে মনে হয়নি। কোথাও আমরা বুঝতে ভুল করছি সেটাই আমার এই লেখার অর্থ।
